ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট

ময়মনসিংহে ধীরগতিতে কমছে বন্যার পানি

  • আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৪ ০৩:১৪:৫২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৪ ০৩:১৫:১৪ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহে ধীরগতিতে কমছে বন্যার পানি নেত্রকোণায় টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে জেলার সদর, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা,পূর্বধলা, বারহাট্টায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন প্রায় এক লাখ পানিবন্দি মানুষ। মানুষের খাবারের পাশাপাশি গো খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে। জেলার অনেক জায়গায় আমন ও শাক-সবজি খেত তলিয়ে গেছে। এতে করে কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুর উপজেলায় বন্যার পানি ধীরগতিতে নামছে। গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি। তবে কিছু এলাকায় অপরিবর্তিত আছে বন্যা পরিস্থিতি।
বন্যাকবলিত এলাকায় খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পানিবাহিত রোগ ছাড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিন উপজেলাতেই প্রশাসনের পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী-র‌্যাবসহ স্বেচ্ছাসেবীরা।
ফুলপুর: টানা বৃষ্টি ও ঢলের কারণে ফুলপুর উপজেলায় গত রোববার থেকেই পানি বাড়তে শুরু করে। শেরপুর জেলার মালিঝি ও কংশ নদী দিয়ে পানি ছনধরা ইউনিয়ন দিয়ে উপজেলাটিতে প্রবেশ করে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। আজ সব পর্যন্ত উপজেলাটির ছনধরা, সিংহেশ্বর ও ফুলপুর সদরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বালিয়া ও রূপসী ইউনিয়নে পানির অবস্থা স্থিতিশীল আছে। ৩৫টি গ্রামের অন্তত ২৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী আছে।
দুপুরে ভাইটকান্দি থেকে ধুরাইল বাজার সড়কের ভাটপাড়া এলাকায় কথা হয় আবদুল হকিম (৬৫) নামের এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি বলেন, এমন পানি আর হয় নাই। সাপ্তাহানি ধইরা পানি। গেছে কাইল থাইকা পানি একটু কমতাছে। এই বন্যায় সবার ক্ষতি কইরা গেল।
পোগাপুটিয়া গ্রামের চাষি সমশের আলী (৭০) বলেন, পানি কমতাছে অল্প অল্প। এইরম বন্যা ছোডু বালা দেখছিলাম। আর অহন দেখলাম। ১৪ কাডা জমিত ধান করছিলাম, হেউনো মাথা উড়া পানি অহন। আল্লায় যে কিবায় দিন নিব হেই চিন্তা করতাছি।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে জানান ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ.বি.এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রশাসনের স্থাপন করা কন্ট্রোল রুমে ত্রাণের জন্য মানুষ ফোন করছে। আমরা বন্যাদুর্গত বাসিন্দাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
হালুয়াঘাট: অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বোরাঘাট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হালুয়াঘাট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে পানিবন্দী হয়ে আছেন ৬ হাজার পরিবার। উপজেলার নড়াইল, বিলডোরা ও শাকুয়াই ইউনিয়নে আজ বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। তবে উপজেলাটির ৯টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে হালুয়াঘাটের নড়াইল ইউনিয়নের বিকেকে হাইস্কুলে সকাল ৯টায় মেডিকেল ক্যাম্পেইন শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
হালুয়াঘাটে তিনটি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. এরশাদুল আহমেদ। তিনি বলেন, ৯টি ইউনিয়নের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। 
ধোবাউড়া: গত শুক্রবার দুপুরের পর অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় ধোবাউড়া উপজেলা। তবে দক্ষিণ মাইজপাড়া, গামারীতলা ও ঘোষগাঁও ইউনিয়নে গত রোববার বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। গত সোমবার রাত থেকে পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের পানি কমলেও গোয়াতলা ও ধোবাউড়া সদরে আজ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। এসব এলাকায় পানিবন্দী হয়ে আছেন ৫৮ হাজার মানুষ। পুরো এলাকাজুড়ে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিশাত শারমিন জানান, পানিবন্দী এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য